কেন কিছু ব্র্যান্ড প্রতি ঈদে বড় সেল পায়, আর বাকিরা শুধু ডিসকাউন্ট দিয়ে যায়
প্রতি বছর একই জিনিস দেখি। রমজান শুরু হয়, তারপর ঈদ চলে আসে, আর বেশিরভাগ ব্র্যান্ড মালিক তখনো বসে ভাবছেন, ক্যাম্পেইনটা কবে শুরু করবেন। ততদিনে কাস্টমার কিন্তু মনে মনে ঠিক করে ফেলেছে, কোন ব্র্যান্ড থেকে কিনবে। আপনার নামটা যদি সেই লিস্টে না থাকে, তাহলে যত বড় ডিসকাউন্টই দিন না কেন, লাভ হবে না। খেলা তখন আর আপনার হাতে নেই।
Social Geek-এ ৯ বছর ধরে ৩০,০০০-এর বেশি উদ্যোক্তার সাথে কাজ করেছি, আর একটা জিনিস প্রায় প্রতিবারই দেখি। যে ব্র্যান্ড এই ফ্রেমওয়ার্ক আগে থেকে ফলো করে, তাদের ক্যাম্পেইন শেষ সপ্তাহের প্যানিকে আটকায় না, সেলস আসে পুরো মাস জুড়ে ছড়িয়ে। রমজান-ঈদ হোক, শীতকাল হোক, পহেলা বৈশাখ হোক, যারা ৩০ দিন আগে থেকে সিরিয়াসলি লেগে পড়ে, তারাই বছরের সবচেয়ে বড় সেলটা নিয়ে যায়। বাকিরা শেষ সপ্তাহে এসে একসাথে ঝাঁপায়, একই কাস্টমারের জন্য কাড়াকাড়ি করে, আর যা বাঁচে তা নিয়েই খুশি থাকতে হয়।
এখানে একটা ৪-ফেজ eid campaign strategy নিয়ে বলি। এটা কোনো বই থেকে মুখস্থ করা থিওরি না, রিয়েল ক্যাম্পেইন চালিয়ে যা কাজ করতে দেখেছি সেখান থেকে বের করা।
কাস্টমার আসলে কবে থেকে ভাবা শুরু করে
আমরা সাধারণত ধরে নিই, কাস্টমার তখনই "শুরু" করে যখন সে টাকা খরচ করে ফেলে। কিন্তু আসলে অনেক আগে থেকেই তার মাথায় ঘোরে জিনিসটা, শুধু আমরা দেখতে পাই না, কারণ ওই সময় কোনো সেল হয় না, তাই কোনো নাম্বারও তৈরি হয় না।
নিজের কথাই ভাবেন না। ঈদে নতুন জামা কেনার চিন্তাটা মাথায় আসে রোজার প্রথম দিক থেকেই। একদিন হয়তো ফেসবুকে একটা রিলস চোখে পড়ল, ভালো লাগল, স্ক্রল করে চলে গেলেন। দুই সপ্তাহ পর যখন আসলেই কিনতে যাবেন, দেখবেন সেই ব্র্যান্ডের নামটাই আগে মাথায় আসছে।
সমস্যা হলো, বেশিরভাগ ব্র্যান্ড শুধু শেষের দিকটা নিয়েই কাজ করে, সরাসরি "কিনুন, ডিসকাউন্ট চলছে"। উপরের দিকটা, যেখানে মানুষ প্রথম আপনাকে চেনে, সেটা একদম খালি পড়ে থাকে। আর এই খালি জায়গাটাই কম্পিটিটরের জন্য সুযোগ হয়ে যায়।
৩০ দিনের ৪-ফেজ ফ্রেমওয়ার্ক, এক নজরে
- ফেজ ১ — চোখের সামনে থাকা (দিন ১-১০): Occasion বিক্রি, ব্রড টার্গেটিং, Meta Reels। মূল মেট্রিক — রিচ, ভিউ, ভিডিও ওয়াচ টাইম।
- ফেজ ২ — লিস্টে জায়গা করা (দিন ১১-২০): প্রুফ, রিভিউ, রিটার্গেটিং শুরু, Google Search। মূল মেট্রিক — রিটার্গেটিং এনগেজমেন্ট, সার্চ ক্লিক।
- ফেজ ৩ — দ্বিধা ভাঙা (দিন ২১-২৭): ডেলিভারি/রিটার্ন তথ্য, WhatsApp সাপোর্ট। মূল মেট্রিক — চেকআউট কনভার্সন রেট।
- ফেজ ৪ — শেষ ধাক্কা (দিন ২৮-৩০): সত্যিকারের urgency, ওয়ার্ম অডিয়েন্স। মূল মেট্রিক — সেলস, ROAS।
ফেজ ১: চোখের সামনে থাকা, শুরুর ১০ দিন
এই সময়টায় মানুষ কিনতে চায় না, একটা মুডে থাকে। ঘর গোছানো, মেহমান আসবে, ঈদের দিন কেমন লাগবে, এসব ভাবনায় থাকে। তাই এখানে প্রোডাক্ট দেখানোর চেয়ে ওই ফিলিংটার সাথে নিজেকে জুড়ে দিন।
টার্গেটিং এখানে ব্রড রাখতে হবে। শুধু পুরনো কাস্টমারদের দেখাতে থাকলে নতুন কেউ চিনবেই না আপনাকে। Meta Reels-এ এটা ভালো কাজ করে। কনটেন্ট হিসেবে চলবে প্রস্তুতির জার্নি, আগে-পরে দেখানো, গিফট আইডিয়া, মেহমানদারির কনসেপ্ট।
এই সময় সেলস দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখানে দেখার জিনিস রিচ, ভিউ, কতজন আপনার ভিডিও পুরোটা দেখল। সেলস আনা এই ধাপের কাজই না।
ফেজ ২: লিস্টে জায়গা করে নেওয়া, ১১ থেকে ২০ দিন
এবার আর শুধু ভালো লাগা দিয়ে হবে না, প্রমাণ লাগবে। কাস্টমার এখন নিজেকে জিজ্ঞেস করছে, জিনিসটা কি আসলেই ভালো, নাকি অ্যাডে সুন্দর দেখাচ্ছে শুধু।
প্রোডাক্ট আসলে কীভাবে কাজ করে দেখান, রিয়েল কাস্টমারের রিভিউ দিন, অন্যদের সাথে পার্থক্যটা স্পষ্ট করুন। ছোট ক্রিয়েটর দিয়ে জেনুইন লাগে এমন কনটেন্টও কাজে দেয়। এখানে দুটো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, প্রোডাক্টটা কেন ভালো, আর কেন আপনার থেকেই কেনা উচিত।
এই সময় থেকে রিটার্গেটিং শুরু করবেন, যারা আগের ভিডিও দেখেছে তাদের ধরে। সাথে Google Search-এ কাজ শুরু করা দরকার, কারণ এখন মানুষ দাম আর রিভিউ খুঁজে সার্চ করা শুরু করে।
এই ফেজের পুরো ব্লুপ্রিন্ট একটা ফ্রি ইবুকে আছে। Discovery, Creative Testing, Scaling আর Retargeting — পুরো Meta Ads ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার একজায়গায় পাবেন। এখনই ইবুকটা নিন →
ফেজ ৩: শেষ দ্বিধাটা ভাঙা, ২১ থেকে ২৭ দিন
এই সময় অনেক কাস্টমার আটকে যায় ঠিক এক জায়গায়। জিনিস পছন্দ হয়েছে, দামও ঠিক আছে, তবু অর্ডার করছে না। কারণ মনে অনেক প্রশ্ন, সময়মতো হাতে পাবো তো, জিনিসটা আসল তো, পছন্দ না হলে ফেরত দিতে পারবো তো।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কাস্টমার জিজ্ঞেস করার আগেই দিয়ে দিন। কবে পৌঁছাবে, রিটার্ন করা যাবে কিনা, জিনিস আসল কিনা তার প্রমাণ কী, সব খোলাখুলি লিখে রাখুন। হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার অপশন থাকলে অনেকেই শেষ পর্যন্ত অর্ডার করে ফেলে, কারণ একটা মানুষের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হতে চায়।
আর একটা কথা, এই সময় নতুন মানুষ আনার চেয়ে যারা এমনিতেই আগ্রহী হয়ে বসে আছে, তাদের দ্বিধাটা ভাঙা বেশি লাভজনক।
ফেজ ৪: শেষ ধাক্কা দেওয়া, শেষ ৩-৪ দিন
এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। মাসজুড়ে "সীমিত সময়, এখনই কিনুন" লিখে গেলে সেটা আর কোনো কাজ করে না, মানুষ বুঝে যায় এটা শুধু কথার কথা।
আসল কাজ হয় সত্যি তথ্য দিয়ে, শেষ কবে অর্ডার করলে ঈদের আগে হাতে পাবে, অফার কবে শেষ হচ্ছে, কোন জিনিসের স্টক সত্যিই কমে আসছে। ভুয়া "মাত্র ৩টা বাকি" এখন কাস্টমাররা চিনে ফেলে, একবার ধরা পড়লে সেই ব্র্যান্ডের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়। শুধু শতাংশ ছাড়ের চেয়ে নির্দিষ্ট অফার বেশি কাজ করে, একটা কিনলে একটা ফ্রি, বা কম্বো প্যাক।
এই সময়ে বাজেট নতুন মানুষের পেছনে না দিয়ে, যারা আগে থেকেই আপনার সাথে এনগেজড তাদের দিকে ঘুরিয়ে দিন।
বাজেট কম থাকলে কী করবেন
বাজেট কম মানে এই না যে সরাসরি শেষ ফেজে চলে যেতে হবে। চারটা ফেজই রাখুন, শুধু সময়টা ছোট করুন। ৩০ দিনের বদলে ১৫-২০ দিনে এই একই কাজ ভাগ করে নিন। কোনো ফেজ পুরো বাদ দেবেন না, কারণ একটা মিস হলে পরেরটা করাই কঠিন হয়ে যায়।
শেষ কথা
উৎসবের সেল একদিনের ঘটনা না, পুরো একটা মাসের গল্প। প্রথমে চোখের সামনে থাকা, তারপর বিশ্বাস তৈরি করা, তারপর দ্বিধা ভাঙা, শেষে একটা শেষ ধাক্কা দিয়ে কেনানো, এই চারটা ধাপ ঠিকমতো করলে পরের সিজনে আর শেষ মুহূর্তে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না।
যারা জেতে, তারা শেষ মুহূর্তে দৌড়ায় না। তারা আগে থেকেই হাঁটা শুরু করে দেয়।
আপনার ব্র্যান্ডের জন্য এই ফ্রেমওয়ার্ক কীভাবে কাস্টমাইজ করবেন তা নিয়ে কথা বলতে চাইলে, একটা ফ্রি Growth Gap Session বুক করতে পারেন — এখনই বুক করুন।
--- *মুমিনুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, Social Geek*
Written by
Muminul Islam
Social Geek — Growth Marketing
Frequently Asked Questions
ঈদের ক্যাম্পেইন আসলে কবে থেকে শুরু করা উচিত?
রমজান শুরুর সাথে সাথেই, মানে চাঁদ রাতের প্রায় ৩০ দিন আগে থেকে। কারণ কাস্টমার তখন থেকেই মনে মনে কেনাকাটার প্ল্যান করা শুরু করে, শুধু টাকা খরচ পরে করে।
ছোট বাজেটেও কি এই ৪-ফেজ ফ্রেমওয়ার্ক চালানো সম্ভব?
হ্যাঁ। ৩০ দিনের বদলে ১৫-২০ দিনে চারটা ফেজ ছোট করে চালাতে পারেন। শুধু কোনো ফেজ পুরোপুরি স্কিপ করবেন না।
শীতকাল বা পহেলা বৈশাখের ক্যাম্পেইনেও কি একই ফ্রেমওয়ার্ক কাজ করবে?
হ্যাঁ, একই লজিক কাজ করে, শুধু কনটেন্ট অ্যাঙ্গেল আর প্রোডাক্ট মেসেজিং সিজন অনুযায়ী বদলাতে হবে।
urgency মেসেজিং কতদিন আগে থেকে শুরু করা উচিত?
শেষ ৩-৪ দিনে। এর আগে urgency ব্যবহার করলে সেটা কার্যকারিতা হারায়, কাস্টমার সেটাকে শুধু কথার কথা মনে করে।
Meta আর Google, কোনটায় বাজেট বেশি রাখা উচিত ঈদ ক্যাম্পেইনে?
শুরুর দিকে (ফেজ ১) Meta-তে বেশি, কারণ ব্রড রিচ দরকার। ফেজ ২ থেকে Google Search যোগ করুন, কারণ তখন মানুষ সরাসরি সার্চ করা শুরু করে।
Book a free 30-min strategy call.
We'll audit your ads and show you exactly where you're losing money.
Book Strategy Call →Limited to 5 new clients per month.
